বড়লোকের ছেলে যখন রিক্সা চালক - ১ম পর্ব ,বাংলা রোমান্টিক গল্প ২০২৪। - Educational Tips 24
News Breaking
Live
wb_sunny

Breaking News

বড়লোকের ছেলে যখন রিক্সা চালক - ১ম পর্ব ,বাংলা রোমান্টিক গল্প ২০২৪।

বড়লোকের ছেলে যখন রিক্সা চালক - ১ম পর্ব ,বাংলা রোমান্টিক গল্প ২০২৪।

 বড়লোকের ছেলে যখন রিক্সা চালক। 

একটা মেয়েঃ এই রিকশা যাবে? ( আমার সামনে এসে)

আমিঃ জি ম্যাম যাবো । কোথায় যাবেন?

মেয়েটাঃসিটি কলেজের সামনে।

আমিঃভাড়া কিন্তু ৩০ টাকা ম্যাম ।

মেয়েটাঃ ঠিক আছে চল। 

মেয়েটা রিকশায় উঠলো । আর আমি চালাতে লাগলাম। এবার পরিচয়টা দেই। আমি রাসেল। আর কিছু জানতে হবে না। গল্পে থাকেন জানতে পারবেন। 

২০ মিনিট পর কলেজের সামনে চলে আসলাম। মেয়েটা নেমে আমাকে ৫০০ টাকার নোট দিল। 

আমিঃ ম্যাম আমার কাছে তো ভাংতি নাই।

মেয়েটাঃতোদের মত ছোট লোকদের এই একটা সমস্যা। কোথাও গেলে ভাংতি দিতে পারে না। এই নে এখানে ২০ টাকা আছে। বাকিটা পরে দিব। ( হাতে দিয়ে টাকাটা)

আমিঃ ম্যাম ভাড়া তো ৩০ টাকা ।

মেয়েটাঃ বললাম না, ভাংতি নাই।

আমিঃ ঠিক আছে আমি ভাংতি নিয়ে আসছি। আপনি টাকাটা দেন। 

মেয়েটাঃ আমি এখন তোর জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে পারবো না। আমার ক্লাসের সময় হয়ে গেছে। ( বলে ভিতরে ঢু'কে গেল) 

আমি আর কিছু না বলে একটা ফার্মেসী তে চলে গেলাম। ওখান থেকে চাচার জন্য ওষুধ নিয়ে ব'স্তিতে চলে আসলাম। আসার সময় কিছু খাবার নিয়ে আসলাম।

এসে চাচাকে খাবার খাইয়ে দিয়ে ওষুধ খাওয়ালাম। তার পর ফ্রেশ হয়ে একটা কলা খেয়ে কলেজের দিকে রওনা দিলাম। একটা কথা আমি কিন্তু মুখে মাক্স পরে রিকশা চালাই। 

রিকশা হচ্ছে চাচার , এতো দিন আমার খরচ চালিয়েছে। এখন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই রিকশা নিয়ে আমি সকালে এবং বিকালে বের হই। 

রিকশা চালিয়ে নিজের পড়ালেখার খরচ চাচার ওষুধের খরচ সব জোগাড় করতে হয়। তো যাই হোক কথা বলতে বলতে কলেজে চলে আসলাম। 

আজকে ও লেট হয়ে গেছে। লেট হওয়ার কারণ আপনারা জানেন। ক্লাস রুমের সামনে গিয়ে বললাম।

আমিঃ May I coming Sir? 

স্যারঃ আজকেও লেট। হুম আসো। তোমাকে কিছু বলি না। শুধু তুমি একজন ভালো ছাত্র। তাই বলছি সঠিক টাইমে কলেজে আসবে। আর তোমার জামা কি একটা। 

আমিঃ স্যার আমি গরিব মানুষ। নতুন জামা কিনার সামর্থ্য আমার নেই। কলেজের টাকা জোগাড় করতে কষ্ট হয়ে যায়। নতুন জামা কিনবো কি দিয়ে!

স্যারঃ ঠিক আছে বসো। 

আমি পিছনের সিটে গিয়ে বসলাম। আমার সাথে কেউ বন্ধুত্ব করে না আমি গরীব বলে।  তার পর স্যার পড়া শুরু করালেন। 

হঠাৎ একটা একটা মেয়েকে দেখে অবাক হয়ে গেলাম। হুম ঠিকই ধরেছেন। ওই মেয়েটা। যে আমার রিকশা করে কলেজে এসেছে। তার মানে মেয়েটা আমার সাথে পড়ে‌ ।

দেখতে কিন্তু অনেক সুন্দর। কিন্তু অহংকারের ভরা। এ মেয়ের থেকে দূরে দূরে থাকতে হবে।  সব ক্লাস শেষ করছি কিন্তু একটা ক্লাস করি নাই। কারন আমাকে রিকশা নিয়ে কলেজের সামনে আসতে হবে। 

তাই একটা ক্লাস না করেই বেরিয়ে চলে আসলাম। সোজা ব'স্তিতে চলে গেলাম। তার পর রিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। কলেজের সামনে চলে আসলাম। 

দেখি ওই মেয়েটা আসছে। সাথে আরেকটা মেয়ে। আমার সামনে এসে দাড়িয়ে বললো।

মেয়েটাঃকিরে তুই এখনো এখানে দাঁড়িয়ে আছিস ১০ টাকার জন্য। 

আমিঃ না ম্যাম, আমি এইমাত্র আসলাম। 

মেয়েটাঃ ঠিক আছে, তাহলে আমাদের নিয়ে চল।

আমিঃ কোথায় যাবেন ম্যাম?

মেয়েটাঃ আরমান সিকদারের বাড়ি ।

নামটা শুনে চমকে উঠলাম। আমি বললাম।

আমিঃ আচ্ছা একটা কথা জিজ্ঞেস করতে পারি ম্যাম।

মেয়েটাঃ হুম কর।

আমিঃ আরমান সিকদার আপনার কি হয়।

মেয়েটাঃ উনি হচ্ছেন, আমার বাবার বন্ধু। আমি বিদেশে ছিলাম, তাই উনার সাথে দেখা করতে পারি নাই। তাই আজকে বাবা বললো উনার সাথে দেখা করে আসতে।

আমিঃ আচ্ছা আপনার বাবার নাম কি?

মেয়েটাঃ সাদিয়া গ্রুপ অফ কম্পানির মালিক রেজাউল করিম। আর তার মেয়ে সাদিয়া আমি। 

আমিঃ ওহ, ঠিক আছে চলুন। ( তার মানে তুমি সাদিয়া আগের থেকে অনেক সুন্দর হয়ে গেছো মনে,মনে বললাম কথা টা)

তার পর তাদের নিয়ে যেতে লাগলাম।৩০ মিনিট পর আরমান সিকদারের বাড়ির সামনে চলে আসলাম। দাড়োয়ান দেখি অন্য জন। 

সাদিয়াঃ এই নে তোর ভাড়া । আগের বিশ টাকা সহ ।

আমিঃঠিক আছে ম্যাম। 

হঠাৎ তিনটা গাড়ি আসলো । হুম ঠিকই ধরেছেন আরমান সিকদারের গাড়ি। ওনি মনে হয় অফিস থেকে আসছেন। ওনাকে দেখা যায় না। কারন গাড়ির গ্লাস কালো । আমি আর দাঁড়িয়ে না থেকে চলে আসলাম। 

সারাদিন রিকশা চালিয়ে ৪৫০ টাকা পেয়েছি। চাচার ওষধ আর কিছু কাঁচা বাজার নিয়ে বস্তিতে গেলাম। চাচার জন্য কিছু খাবার এনেছি। তাই ওনাকে খাওয়াতে গেলাম। 

কিন্তু চাচার শরীর ধরে দেখি পুরো শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। নাকের কাছে হাত নেওয়ার পর যেটা দেখলাম তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।

চাচা আর নেই। আমি চাচাকে ধরে কান্না করতে লাগলাম। আমি এখন পুরো এতিম হয়ে গেলাম চাচা । তুমি আমাকে রেখে কেন চলে গেলে। তুমি কেন আমাকে সাথে করে নিয়ে গেলে না। এখন আমি কি নিয়ে বাঁচবো । আমার কান্না শুনে ব'স্তির সবাই ছুটে আসলো। আর আমাকে অনেকেই শান্তনা দিচ্ছে। কিন্তু আমার কান্নার বেগ আরো বাড়ছে। হঠাৎ একজন মহিলা বলে উঠে তোমার চাচা অনেক ভালা মানুষ আছিলো, কান্না কইরা উনার আত্মাকে কষ্ট দিওনা বাবা! এর চেয়ে ভালো হবে তাড়াতাড়ি ক'বর দিয়ে দাও। আমি মনে,মনে বললাম হায়রে মানুষ? একটা মানুষ ম*রতে দেরী হয় কিন্তু ক'বর দিতে দেরী হয়না। কী আর করার এটাই দুনিয়ার নিয়ম।আমিও অবশেষে কান্না থামিয়ে পাশে একটা ক'বর স্থানে চাচাকে ক'বর দিলাম। যে চাচা আমার বাবা মা হয়ে আমার পাশে ছিলেন সবসময় তাকে ছাড়া আমি কী করে থাকবো? ( কিছু টা কান্না করে )

দেখতে দেখতে সাত দিন চলে গেল। আমি সারাদিন ঘরে ছিলাম। এই সাত দিনে রিকশা চালাই নাই। এখন কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছি। তাই ভাবলাম, এভাবে বসে থাকলে তো চলবে না। আমাকে পড়ালেখা শেষ করতে হবে। 

সকালে ভোরে ভোরে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে রিকশা নিয়ে বের হয়ে গেলাম। অনেকক্ষণ রিকশা চালিয়ে একটা দোকানে গেলাম। দোকান থেকে একটা কলা আর পাউরুটি খেয়ে চলে আসলাম। 

হঠাৎ পিছন থেকে কে যেন ডাকতে লাগল। আমি তাকিয়ে দেখি সাদিয়া ম্যাম। আমার সামনে এসে বললো।

সাদিয়া ম্যামঃ কিরে এতো দিন কোথায় ছিলি। 

আমিঃ আমার চাচা মা*রা গেছে। আপন বলতে চাচাই আমার সাথে ছিল। তাই এ কয়দিন রিকশা চালাই নাই। 

সাদিয়া ম্যামঃ ওহ, তোকে অনেক খুঁজেছি, কিন্তু তোকে দেখি নাই। 

আমিঃকেন ম্যাম?

সাদিয়াঃ তুই ওদিন আমাকে আরমান সিকদারের বাড়িতে নামিয়ে আসার পর এই সার্টিফিকেট টা পেয়েছি। 

আমি দেখে সাথে সাথে বললাম,আল্লাহ তুমি আমাকে এতো একটা বিপদ থেকে উদ্ধার করেছো। 

আমিঃধন্যবাদ ম্যাম। তা এখন কোথায় যাবেন? ( যেন আর কিছু না বলে। কথা ঘুরানোর জন্য)

সাদিয়া ম্যামঃ এই তো কলেজে। 

আমিঃচলুন আপনাকে নামিয়ে দিয়ে আসি।

সাদিয়া ম্যামঃ ঠিক আছে চল। আর সরি ।( রিকশায় উঠে) 

আমিঃসরি কেন ম্যাম।

সাদিয়া ম্যামঃ ওদিন ভাংতির জন্য অনেক খারা*প কথা বলেছি। তার জন্য।

আমিঃ ম্যাম গরীব ঘরের ছেলে আমি। রিকশা আমার একমাত্র টাকা উপার্জনের সঙ্গী। রিকশা চালালে কতো মানুষ কতো কিছু কয়। আমাদের ধৈর্য ধরে শুনতে হয়। কারন আমরা গরীব। আর তারা বড়লোক। তাদের প্রচুর টাকা । তাদের ক্ষমতা বেশি। তাই যে যা বলে আমরা কিছু বলি না। আমাদের গা*লি শুনে হলেও টাকা ইনকাম করতে হবে। 

সাদিয়াঃতোর দুনিয়া আপন কেউ নেই?

আমিঃআছে কিন্তু তাদের কাছে আমি মৃ*ত। 

সাদিয়াঃকেন?

আমিঃম্যাম পরে একসময় বলবো। আপনার কলেজে চলে এসেছি। 

সাদিয়া ম্যামঃ ওহ,।

সাদিয়া ম্যাম নেমে আবার ৫০০ টাকা হাতে দিল। 

আমিঃ ম্যাম আমার কাছে ভাংতি নাই। ( মাথা নিচু করে)

সাদিয়াঃ সমস্যা নেই পুরোটাই রেখে দাও।

আমিঃনা ম্যাম , গরীব হতে পারি । কারো সাহায্য নিয়ে চলি না। 

সাদিয়া ম্যামঃ আমি তো তোমাকে সাহায্য করেছি না। আমি তোমাকে খুশি হয়ে দিলাম।

আমিঃনা ম্যাম , আমি নিতে পারবোনা। আপনি আমাকে পরে একসময় দিয়েন। ( এই বলে আমি চলে আসলাম সাদিয়া ম্যামকে কিছু বলতে না দিয়ে।)

বস্তিতে এসে রিকশাটা রেখে ফ্রেশ হয়ে তারপর  ব্যাগটা নিয়ে কলেজে চলে আসলাম। 

#চলবে 

গল্প বড়লোকের ছেলে যখন রিকশাচালক।

পর্বঃ ১। 


Tags

Newsletter Signup

Sed ut perspiciatis unde omnis iste natus error sit voluptatem accusantium doloremque.

Post a Comment